
সম্পাদকীয়
“উৎসব” শব্দের বাংলা অর্থ হলো “উল্লাসপূর্ণ উপলক্ষ্য” বা “উল্লাসপূর্ণ অনুষ্ঠান”। উৎসব বলতে সাধারণত সামাজিক, ধর্মীয় এবং ঐতিহ্যগত প্রেক্ষাপটে পালিত আনন্দ অনুষ্ঠানকে বোঝায়। আমরা উৎসব বলতে বুঝি সংহতি। জাতি, ধর্ম , ভাষা, পোশাক সমস্ত রকমের ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে কাছে টেনে নেওয়া। সেই মিলনে মিশে থাকে অনাবিল আনন্দ। উৎসব হলো আনন্দলোক , মঙ্গলালোক। যাতে মানুষের বিচরণ সদা সত্য সুন্দর। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের।
আমরা একটা অচেনা সময়ের মধ্য দিয়ে হাঁটছি। আমার প্রিয় শহরে ঘটে গেছে এক নারকীয় ঘটনা। যার তীক্ষ্ণতা নাড়িয়ে দিয়েছে সকলকে। এতটাই বিষাদময় সেই ঘটনা, তা আমার রাজ্য, আমার দেশ এর গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবীতে। আপামর বাঙ্গালিকে একটা শোকের ছায়ায় নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে। মানুষ একজোট হয়েছে। অন্যায় এর বিরুদ্ধে কথা বলার জোর পেয়েছে। সোচ্চার হয়েছে। এবারের উৎসব তাই আলাদা প্রকৃতির। এই উৎসবকে গণজাগরণ বা বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। মানুষ বিচার চাইছে, সামাজিক ন্যায়বিচার। মানুষ সুরক্ষা চাইছে। ঘর থেকে বেরিয়ে এসে “রাত দখল” করছে মেয়েরা। ন্যায় বিচার এর দাবি থেকে উঠে আসা, এই গণ-আন্দোলন-ই হলো বৃহৎ উৎসব। এই উৎসবে শামিল হয়েছে, এই সাগরপারের দেশ নেদারল্যান্ড এ বসবাসকারী বাঙালীরাও। আমরা দূরে থাকলেও, আমার প্রিয় শহরের সাথে নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে আছি। তাই, আমরা কোনও ঘটনা থেকেই বিচ্ছিন্ন নই।
মানসিকভাবে অস্থির এই সময়ে সাহিত্যচর্চা করাটা ভীষণভাবে কঠিন। বিশেষ করে মানসিক স্থিতি যেখানে অনেকটাই বিঘ্নিত হয়েছে , সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে। তবুও আমরা চেষ্টা করেছি, প্রতিবারের মতো এবারও একটা পুজো সংখ্যা বের করার। সাহিত্যের মধ্যে দিয়ে সমাজ এর অনেক কথা বেরিয়ে আসে। বেরিয়ে আসে সমাজ এর ভালো-মন্দ দুই দিক-ই। মানবজীবনের নানা অনুষঙ্গ প্রতিফলিত এর মাধ্যমে। এই সময়ের কথা ভেবে, কাউকেই বিশেষভাবে অনুরোধ করব না এই সংখ্যা পড়ার জন্যে। শুধু আশা রাখবো, যদি সময়ের অবসরে চোখ বোলাতে চান, তবে একবার ঘুরে যেতে পারেন আমাদের এই সংখ্যায়।
পরিশেষে বলতে চাই, এবারের উৎসব কে আমরা উৎসব না বলে, শুধু পুজো বলতে চাই। যেখানে ধর্মীয় উপাচার থাকবে অক্ষুন্ন। প্রতিটি প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে হপিং করার সময়, ঈশ্বরের কাছে আমরা যেন তিলোত্তমার আত্মার শান্তি কামনা করি। আর “ন্যায়বিচার” এর জন্যে সোচ্চার হই। আমাদের এই প্রতিবাদ ও সুবিচারে দাবি হিল্লোলিত হোক সমস্ত বাঙালিদের মধ্যে। আমরা সকলে মিলে অঙ্গীকারবদ্ধ হই, যাতে করে আর একটিও “তিলোত্তমা”র ঘটনা যেন না ঘটে এই শহরের বুকে।

